রবিবার, ৮ মার্চ, ২০১৫

কবিতাঃ “নিয়ম ভাঙার নেশা”


বড় বেশি হিসেবের সুতোয় বাঁধা এ জীবন আমার
লজ্জাবনত নিচু মুখে চেয়ে থাকি
নিজের তুলনায় অন্যের সম্মান আগে ভাবি
ভুল করার আগে ভাবি দশবার;

ভাবতে ভাবতে বাড়ে হাঁটুর বয়স,
ভাবতে ভাবতে বাড়ে মনের সাহস,
ভাবতে ভাবতে মনের আগল খুলে,
ভাবতে ভাবতে পাক ধরে চুলে।

কখনো যে বাড়াইনি পা ভুল অলি গলি’তে
সম্মানে সম্মানিত জানি আত্মীয় বন্ধু’তে!

আজ হঠাত পেয়েছে নেশা নিয়ম ভাঙার,
স্নায়ুতন্ত্রে পোকার কামড় চলছে বারংবার,
উত্তেজনায় কাঁপছে তনু, আজ নতুন স্বাদ নেবার।
----------------------------------------------------------
১১।১২।১৩
ধানমণ্ডি
www.nokkhotro.com এ ১ বছর আগে সাহিত্য, কবিতা বিভাগে প্রকাশিত

কবিতাঃ “প্রেমময়ী বরষা”


প্রখর রৌদ্রতাপে ওষ্ঠাগত প্রাণ,
দালান কোঠা, নগর, গ্রাম
শুকনো পাতার মর্মরে ছন্দ ফোঁটে না চরণ তলে
আগমনী সুর ঐ ছাতি ফাঁটা গ্রীষ্মের,
পিপাসায় কাতর পথিকের প্রাণ,
“পানি! পানি!” আর্তচিতকারে হাহাকার!
অতিষ্ট শীতের প্রকোপ ছেড়ে বেঁচে
বসন্তের কোকিল কন্ঠের গুঞ্জন সুরের মাতমে
ভালোবাসা উষ্ণতা ছড়ায় মানব-মানবীর
সন্ধিত কায়ার ইঞ্চি ইঞ্চি বিন্দু-সিন্ধুতে;
প্রকৃতি কি’বা মানব-মানবী আজ এই সন্ধ্যার
বৃষ্টিসুধায় প্রেম-বিগলিত বর্ষাহীন ফাল্গুধারায়
------------------------------------

জাকিয়া জেসমিন যূথী
১৩।০৩।২০১৩ ইং, ২৯শে ফাল্গুন 
সন্ধ্যা রাত ৭।৫২মিনিট

কথাকাব্যঃ ‘দুষ্টুমিতে কথোপকথন’


এই মেয়ে,
এত রাতে জেগে বসে করছো কি?

 দুষ্টুমির অভিসারে মাততে
মনে চাইছে বড়ো !
তুমিও তো জেগে,
বলি, ভাবছো কি?

দুষ্টুমি ও অভিসার, কার সাথে
কে তোমার সেই সংগী?
কথায় এনেছো ভিন্নতা
লাগছে অন্যরকম তোমার ভঙ্গী!

আরি না না! কি যে বলো না তুমি
দুষ্টুমির শিরোমণি,
আমার আর কে বা আছে কথা বলার
তুমিই তো আমার সেই মানুষখানি!

------------------------------
জাকিয়া জেসমিন যূথী
৩০/০৩/২০১৪ ইং 




প্রাসঙ্গিক কিছু কথা সহ প্যারোডি কবিতা

জব বিষয়ক লেখা

বাংলাদেশের চাকরির বাজার ধীরে ধীরে নিম্নমুখী। লাখ লাখ দক্ষ জনতা বেকার হয়ে বসে আছে।  প্রচুর কর্মখালি হলেও কারা যে চাকরি পাচ্ছে আল্লাহই মালুম! জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মনে করে, স্বজনপ্রীতিই এর মূল কারণ!” এই কথাটির সত্যতা দেখে এলাম, কয়েকটা ইন্টারভিউ দিয়ে। লিখিত পরীক্ষা যত নাম্বারে নেয়া হয়, সিংহভাগ নাম্বার বাগিয়ে ভাইভাও সেইরকম ভালো দেওয়ার পরেও যখন নিয়োগপত্র আসে না, তখন পরবর্তী কোথাও আবেদন করার আগ্রহই দমে যায়। মনে হয়, আবেদন করার টাকা আর আনুসংগিক খরচ পুরাটাই গচ্চা!!
ইদানিং নিয়োগ কর্তাদের নতুন একটা ব্যবসা দেখছি। হতে পারে সেটা তাদের নিয়ম। প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই লোক বাছাই করা থাকে। সরকারের কাছে নিয়োগের স্বচ্ছতার জন্য “পেপারে নির্দিষ্ট অংকের ব্যাংক ড্রাফট সহ একটি বিজ্ঞপ্তি”  দেয়। সামান্য কিছু নিয়োগের শর্ত থাকে। অসংখ্য বেকুব বেকার সেই ফাঁদে পা দেয়। আমিও তাদের মধ্যে একজন।
বেশ কিছুদিন আগের কথা। তখন ক্রমাগত ইন্টারভিউ দিতে দিতে আর চাকরী না পেতে পেতে অসহ্য হয়ে উঠেছি। কিন্তু শেষের পরীক্ষাটা খুব ভালো হয়েছিলো।  পরীক্ষাটি দিয়ে মনে গান বেজে উঠেছিলো,
“চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি সবাই শুনছো!”
 ফেসবুক আর ব্লগ আড্ডায় একটা খুশির স্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম। তা দেখে এক ব্লগার বন্ধু জানতে চেয়েছিলো, “খবর কি?”  ভেবেছিলাম, নিয়োগপত্র হাতে পেয়েই ওই বন্ধু সহ বাকী সবাইকে জানানো যাবে।
কিন্তু, যেখানে প্রথমে মনে হলো, চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি; পরদিনই ভাইভার রেজাল্ট জানিয়ে দেয়া হবে জেনে আসলেও তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কিছুই খবর এলো না যখন তখন মনের যে অবস্থা হয় তা কি আর এক কথায় জানানো যায়” আর, তাই এই লেখাটির অবতারণা!!!
       ‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো
       
এখন আর কেউ আটকাতে পারবেনা
       
সম্বন্ধটা এই বার তুমি ভেস্তে দিতে পারো
       
মা-কে বলে দাও বিয়ে তুমি করছো না
       
চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা সত্যি
       
আর মাত্র কয়েকটা মাস ব্যাস
       
স্টার্টিংয়েই ওরা ১১০০ দেবে তিন মাস পরে কনফার্ম
       
চুপ করে কেন বেলা কিছু বলছো না
       
এটা কি ২৪৪১১৩৯
       
বেলা বোস তুমি পারছো কি শুনতে
       
১০-১২ বার রং নাম্বার পেরিয়ে তোমাকে পেয়েছি
       
দেবো না কিছুতেই আর হারাতে
       
হ্যালো ২৪৪১১৩৯
       
দিন না ডেকে বেলাকে একটিবার
       
মিটারে যাচ্ছে বেড়ে পাবলিক টেলিফোনে
       
জরু্রি খুব জরুরি দরকার
       
স্বপ্ন এবার হয়ে যাবে বেলা সত্যি
       
এতোদিন ধরে এতো অপেক্ষা
       
রাস্তার কতো সস্তা হোটেলে
       
ব্যস্ত ক্যাবিনে বন্দী দুজনে
       
রুদ্ধশ্বাস কতো প্রতীক্ষা
       
আর কিছু দিন তারপর বেলা মুক্তি
       
কসবার ঐ নীল দেয়ালের ঘর
       
সাদা-কালো এই জঞ্জালে ভরা মিথ্যে কথার শহরে
       
তোমার আমার নাল-নীল সংসার
       
চুপ করে কেন একি বেলা তুমি কাঁদছো
       
চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি সত্যি
       
কান্নাকাটির হল্লাহাটির সময় গেছে পেরিয়ে
       
হ্যালো তুমি শুনতে পাচ্ছো কি
       
হ্যালো ধুর ছাই হ্যালো
        —————————​
       
অঞ্জন দত্ত

...আমার রচিত প্যারোডি>>

চাকরিটা আমি পেয়ে যেতাম, তুমি শুনছো?
মনে হচ্ছিলো কেউ আটকাতে পারবেনা
জব এপ্লাইয়ের দৌঁড় বুঝি এই বার থামলো,
মাকে বলে দিলাম আর পড়াশুনা লাগবেনা!

চাকরিটা আমি ... ... ... ... পড়াশুনা লাগবেনা!!

চাকরিটা পেয়েই যাচ্ছি...লাম শোন, সত্যি!
মাত্র কয়েকটা দিন ছিলো ব্যস;
স্ট্রার্টিঙ্-এ ওরা ছ’হাজার দিবে, তিন মাস পরে কনফার্ম!
চুপ করে কেন তুমি, কিছু বলছো না?
এটা কি ০১৭৩ এর সেই জিপি নাম্বার?
এই যে তুমি, পারছো কি শুনতে?
১০-১২ টা রঙ নাম্বার পেরিয়ে তোমাকে পেয়েছি,
দেবো না কিছুতেই আর হারাতে!

হ্যালো ০১৭৩*১১৩৯ ?
দিন না ডেকে প্রিয়’কে একটি বার!
চার্জ চলে যাচ্ছে, পুরান মোবাইল ফোনে,
জরুরী খুব জরুরী দরকার!

স্বপ্ন এবার হয়ে যেতো পুরা সত্যি,
এতদিন ধরে কত অপেক্ষা,
কত পেপার্স ফটোকপি, ছবি ওয়াশ
সত্যায়িত, কুরিয়ার ও পোস্ট করে,
রুদ্ধশ্বাস কত প্রতীক্ষা!!

স্বপ্ন এবার হয়ে ... ... ... কত প্রতীক্ষা!!

আর কিছুদিন তারপর হতো মুক্তি,
পরিবর্তন হতো বেকার অবস্থার;
টিউশনী ছেড়ে সুখ পেতাম স্থায়ী চাকরীর সুবিধার!

এটা কি ০১৭*২৪৪১১৩৯?

বলো বলো, তুমি পারছো কি শুনতে?
১০-১২টা রঙ নাম্বার পেরিয়ে তোমাকে পেয়েছি,
দেবোনা কিছুতেই আর হারাতে!

হ্যালো জিরো ওয়ান সেভেন... ... জরুরী দরকার।

চুপ করে কেন একি দেখি, তুমি কাঁদছো?
চাকরিটা আমি পেয়ে যেতাম সত্যি,
কান্নাকাটির হল্লাহাটির সময় যেতো পেরিয়ে,
হ্যালো! তুমি শুনতে পাচ্ছ কি?

চুপ করে কেনো... ... পাচ্ছ কি?

এটা কি জিরো ওয়ান ... ... ... হারাতে।

হ্যালো ... ... ... খুব দরকার!!

হ্যালো ... ২৪৪১১৩৯?
হ্যালো ... ২৪৪১১৩৯?
হ্যালো ... ২৪৪১১৩৯?
হ্যালো ... ২৪৪১১৩৯?


----- 

কবিতাঃ “নারী”


০২ আগস্ট ২০১২ ইং


নারী,
হতে চাই তোমার শাড়ির আঁচল
বুকের জমিনে উষ্ণ নিঃশ্বাসে
করে দিতে চাই তোমাকে উম্মাতাল;
শাড়ির কুঁচির ভাঁজে ভাঁজে লুটোতে চাই
তোমার নরম পেলব পায়ের পাতায়
প্রতিবার হাঁটার তালে ঠোট ছুঁতে চাই চুমোয় চুমোয়।  

বলো তো কোন রূপে পেতে চাই তোমায় আজ?
যদি তুমি চাও তোমায় জড়িয়ে থাকি
সকাল দুপুর হতে সাঁঝ
রোদ বৃষ্টি বা কাঁদায় নষ্ট হবে না এতটুকু
পরবে না কোন ভাঁজ
তবে তুমি জড়াতে পারো আজ
সিল্কের আবরণে তোমার নিরেট পরিপুষ্ট যৌবন।

তোমার নরম পেলব পায়ের পাতায়
ভরিয়ে দেবো পুরুষ্ঠ ঠোঁটের চুমোয়
নগ্ন ঘাড়ের ওপর ক্রমশ উষ্ণ ভারী নিঃশ্বাসে
যদি পেতে চাও ছোঁয়া আমার আদর স্পর্শ পুরো অবয়বে,
লাজ লজ্জা ভুলে নাভীমূলে যদি পেতে চাও ঈর্ষার নজর;
তবে সবচেয়ে কাছের হয়ে জড়াই
আজ তোমারে জর্জেট শিফনে।

যদি পেতে চাও এক মাথা ঘোমটার আবরণ,
তোমার নিজস্ব শাসনে বশ করে রাখতে প্রতিটি কোণা
সামান্য স্খলিত হবার কোন ভয় থাকবে না,
তাহলে জড়াও মোরে বালুচরী টাংগাইল
বা সুতি কোটা শাড়ির বুননে।



শনিবার, ৭ মার্চ, ২০১৫

কবিতাঃ শীত এলেই

জানুয়ারী ২০১২ সংখ্যাঃ শীত


 ১০৫ মন্তব্য সমূহ  |    ৪টি পছন্দ  ৫১৯ বার দেখা হয়েছে

শীত এলেই

কবিতা : জাকিয়া জেসমিন যূথী
শীত এলে ফিরে বছর ঘুরে,
হলুদ সর্ষের গন্ধে মাতোয়ারা করে, 
গায়ে দিয়ে কুয়াশার সাদা চাদরে,
মাঠ-ঘাট-প্রান্তর ঠান্ডায় আঁকড়ে, 
ঝরিয়ে টুপটুপ রাতের শিশিরে,
সকালে সূর্যটাও উঠে দেরী করে। 

শীত এলে ফিরে বছর ঘুরে, 
ছোট বড় সবারই আনন্দ উপচে পরে,
পিঠাপুলির উৎসব চলে দেশ জুড়ে; 
গাছিরা ভারী খুশি খেজুরের রস ফেরী করে;
গরম পোশাকের ব্যবসা যায় বেড়ে,
দলে দলে ধনীরা বেড়াতে বেরিয়ে পরে। 

আনন্দের মাঝে মুহ্যমান হই কিছু খবরে,
শীত এলেই খবর আসে পেপারে পেপারে,
প্রতিদিন মরছে লোক, মরছে শিশু শীতের কামড়ে;
শুনে খুব কষ্ট পাই, আমরা মানুষ কি করে!
কোটি জনগণের বড়লোকের ভীড়ে,
আমরা কি রাখতে পারিনা ওদের গরমে ঘিরে!

কবিতাঃ “আমার বাংলাদেশ!


     
  রঙের শিল্পী আমি
ভালোবাসি
ছয় ঋতুর এই দেশ;
গ্রীষ্মে তুফান, বর্ষায় জল
শরতে তুষার নীল আকাশ, হেমন্তের সোনালী ফসল,
কনকনে শীতে কুয়াশা জর্জরিত চারদিক
আর বসন্তে কোকিলের কুহুকুহু হাকডাক;


ধন্য আমি
জন্মেছি
অজস্র গূণের সমাহার এই দেশে;
যেথায় সবুজে শ্যামলে ভরা কৃষি জমি,
পৃথিবী বিখ্যাত ম্যানগ্রোভ বন, পাহাড়ি বনভূমি,
কক্সবাজারের সুনীল সমূদ্র সৈকত, সীতাকুন্ডের গরম পানির ঝর্ণা,
প্রাকৃতিক লীলাবৈচিত্রের সমাহারে বয়ে গেছে বন্যা;


গর্বিত আমি
নাগরিক
এই সুন্দর ছোট্ট দেশটির;
লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে,
হাজারো মা-বোন-ভাইয়ের ত্যাগ ও ধৈর্য্যের ঋণে,
আমরা আজ পরিচিত নোবেল বিজয়ী জ্ঞানীর হাটে,
বাংলা ভাষাও আজ স্থান পেয়েছে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে।
---------------- 
জাকিয়া জেসমিন যূথী
২৫ নভেম্বর ২০১১ ইং 



কবিতা......'বৃষ্টি নাকি তুমি'



বাইরে বৃষ্টি ঝমাঝম ঝমাঝম টুপুর টুপুর
তোমায় নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে
হেঁটে যাচ্ছি ওই গাঁয়ের ধান খেতের আল ধরে!
বৃষ্টিতে ভেজা আমার শাড়ি, জড়িয়ে গেছে তনু দেহে।
যেন শাড়ি নয়, তুমিই জড়িয়ে আমাকে;
আমার ভেজা শরীরের ঘ্রাণ,
আমার ভেতরের সব প্রেম শুষে নিতে চাইছ তুমি
লেপটে আছ বুকের পাহাড় ছুঁয়ে!
তোমার মাথা রেখে এইখানে, দুহাতে জড়িয়ে আমার
রহস্য খুঁজে যাচ্ছ তুমি, আর চোখে, ঠোঁটে তোমার দুষ্টুমি!
--- ---
                                                                                                                                                                জাকিয়া জেসমিন যূথী, ঢাকা।

১৭ আগস্ট ২০১১ ইং